সফলতা কোন সোনার হরিণ নয় ! বরং একটা চ্যালেঞ্জ!!

সফলতা কোন সোনার হরিণ নয় ! বরং একটা চ্যালেঞ্জ!! হুম কথাটি হাড়ে হাড়ে সত্য।

আমরা মানুষ ,তাই সহজাত প্রবৃত্তি অনুসারে আমাদের চাওয়ার যে শেষ নেই সেটা স্বাভাবিক । Economics এর ভাষায় সেই জন্য বলা হয়,”The demand is unlimited where the resource is highly limited.” আর আমরা আসলে এই সীমাহীন অভাবকে কত সহজে ,কত দ্রুত এবং কত কম সম্পদ ব্যয় করে মিটাতে পারি তার প্রয়াশ করে থাকি। চেষ্টা করলে সফলতা অবশ্যম্ভাবী ,এই গুরুবাক্যটা সবাই জানে ।

  বলতে গেলে আমাদের কাররই চেষ্টার কোন ত্রুটি থাকেনা, তাহলে বলতে পারেন এত কষ্ট করা সত্ত্বেও কেন আমরা সফল হইনা ।এর কারন হচ্ছে আমরা কষ্ট করার সঠিক পদ্ধতিটা জানিনা ।একটা কথা সবার মনে রাখা দরকার যে ,কষ্ট করলেই যদি সেরা হওয়া যেত তাহলে গাধাই হত বনের রাজা। সফল হওয়ার জন্য সঠিক উপায়ে অগ্রসর হতে হবে।তাহলেই কেবল মাত্র সাফল্য তোমার কাছে নিজেকে ধরা দিবে।

লক্ষ্যকে উদ্দেশ্য করে অগ্রসর হইওনা বরং লক্ষ্যকে সাথে নিয়েই অগ্রসর হও। কিন্তু লক্ষ্য আগে নির্দিষ্ট করা চাই এবং তাকে অর্জন করার পূর্ণ ইচ্ছা থাকতে হবে ।

যাইহোক কাজের কথায় আসি –

একটা সন্তান যখন জন্ম গ্রহণ করে তার পরিবার তার মধ্যে আশার আলো খুঁজে পায়। ছোট একটা বাচ্চার অনেক স্বপ্ন থাকে।বড় হয়ে সে পাইলট হবে,ইঞ্জিনিয়ার হবে,ডাক্তার হবে,বিজ্ঞানী হবে আরও কত কি। কয়জনইবা হতে পারে? যখন তার অবচেতন মনের একটু প্রসার ঘটতে থাকে আর বাস্তবটা বুঝতে শিখে , সে বুঝতে পারে তার দৌড় কত ।সে তখন তার লক্ষ্যকে নির্দিষ্ট করে নেয় এবং সেই অনুযায়ী অগ্রসর হয়। আর যে রাস্তা দিয়ে অগ্রসর হবে সে রাস্তা যদি সঠিক হয় তবে লক্ষ্য তার হাতের মুঠোয় চলে আসে।

একটা ইন্টার মিডিয়েট পড়া স্টুডেন্টের কাছে সব থেকে বড় এবং চান্স পাওয়ার আগে একমাত্র স্বপ্ন হল ভাল একটা পাবলিক ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হওয়া।চান্স পাওয়ার আগে বললাম এই কারনে যে,চান্স পাওয়ার পর মনে হতে পারে আমি এর থেকে ভালো একটাতে যেতে পারলামনা কেন। আগেই বলেছি মানুষ হিসেবে আমাদের চাহিদার শেষ হবেনা । একজন বুয়েটে পড়ুয়া স্টুডেন্ট বলবে আমি একটা স্কলারশিপ পেলে ভালো হত দেশের বাইরে পড়তে পারতাম ।

ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের কারও কাছে মনে হবে বুয়েটে পড়তে পারলে ভালো হত।যদিও বুয়েট এবং ঢাবি দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । তবে চান্স পাওয়ার জন্য একটু হলেও যে কষ্ট বেশি করতে হবে সেটা কারও অজানা নহে।যদি সঠিক পথে কাজ কর তাহলে সফলতা আসবেই।একজন ইন্টার পড়ুয়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে সাধারণত তিনটা , মেডিকেল নাহলে বুয়েট, নাহলে ঢাবিতে পড়ার। আর বানিজ্য ও কলা বিভাগের স্বপ্ন থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এখন বলতে পার এতই বলছেন যে ভার্সিটিতে চান্স পাওয়া সহজ নয় ,আবার বলছেন যে সঠিক পথে অগ্রসর হলে খুব সহজ তাহলে পথটা কি? আচ্ছা তোমাকে যদি বলা হয় যে,তোমাকে তোমার বাসা থেকে তোমার কলেজে যেতে হবে ।আমি নিশ্চিত যে অনেক গুলো রাস্তা থাকবে কিন্তু এরমধ্যে থেকে তুমি কোন রাস্তা দিয়ে যাবে ? নিশ্চয় যে রাস্তা দিয়ে যাত্রা করলে তুমি সব থেকে দ্রুত পৌঁছাবে সেটা দিয়ে যাবে ,যদি তোমার কাছে সময় কম থাকে। আর যদি তুমি দুর্বল হও তাহলে নিশ্চয় যে রাস্তা দিয়ে গেলে তুমি সহজে যেতে পারবে ,সেই রাস্তা দিয়ে যাবে। এখন তুমি কোন রাস্তা দিয়ে যাবে সেটা তোমাকেই ঠিক করে নিতে হবে ।


তবে কিছু কৌশল বলি কাজে লাগতে পারে—

*তোমাকে খুব বেশি পড়তে হবেনা ,তবে যেটুকু পড়বা খুব মন দিয়ে পড়বা।

*নিয়মিত পড়াশুনা করবে ,এতে করে তোমাকে পরের দিনের অতিরিক্ত চাপ নিতে হবে না। *ব্রেইনের উপর কখনই অতিরিক্ত চাপ দিবেনা।

*সবাস্থের প্রতি নজর রাখবে।

* তোমাকে মাথায় রাখতে হবে HSC তে ভালো করে সব টপিক পড়ার ।এডমিশনে কিন্তু মূল বই থেকেই প্রশ্ন করা হয় তাই তুমি যদি একাডেমিকের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পার তাহলে এডমিশন নিয়ে খুব ভাবা লাগবেনা। ভার্সিটিতে কোন কোন অধ্যায় বা টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন আসে সেটা একাডেমিক লেভেল থেকেই ধারণা নিতে পারলে ভাল হয় ,আর এটার জন্য ভাল হয় কোন বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পড়া ।

* তোমাকে অবশ্যই এইচ. এস. সি. তে ভাল করতে হবে,কারন প্রায় প্রতিটি ভার্সিটিই রেজাল্টের উপর বড় একটা স্কোর রেখে দেয়।

*প্রাইভেট পড়ার প্রতি বেশি না ঝুকে নিজের পড়ার প্রতি সময় বেশি দিতে হবে।

* পূর্বে যাই কর না কেন সেগুলো বাদ দিয়ে তোমাকে এখন থেকেই সিরিয়াসলি পড়াশুনা শুরু করতে হবে।

*কোন ডিপার্টমেন্টএ কত গুলো সিট আছে সেটা নিয়ে না ভেবে তোমাকে চিন্তা করতে হবে ,’আমিতো আমিই।‘ Have your confidence ,if there are only one seat ,that seat will be your’s………………..

* কখনও কাউকে দুর্বল ভাবা যাবেনা। প্রত্যেকে তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী ,কাউকে হেয় করে দেখা তোমার কাজ না। গুরুজনদের মতে,’ জীবনযুদ্ধে যোগ্যতমরাই টিকে থাকে।‘

* আমি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে পক্ষপাতিত্ব করছিনা তবে তাদের নিয়ে একেবারেই যদি না বলি তবে নিজের কাছেই অপরাধী হয়ে যাব ।

তোমার টার্গেট যদি হয় ইঞ্জিনিয়ারিং ,তাহলে বুয়েট যে প্রথম লক্ষ্য তাতে কোন সন্দেহ নাই।বুয়েট এডমিশন আসলে সেরাদের সেরাকে বাছাই করে কিন্তু নিজেকে কখনও বুয়েটের অযোগ্য মনে করবে না। এখানে সেরা ৯-১০ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারে তাই তোমাকে প্রথমেই পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে,এরপর তোমাকে নিজের অর্জিত জ্ঞানের যতাযথ প্রয়োগ করতে হবে এডমিশন টেস্টে। তুমি যে জ্ঞানের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলে সেই জ্ঞানই তোমাকে চান্স পাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট।

আসলে তোমাকে সময় এবং জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার করতে হবে । টার্গেট যদি হয় মেডিকেল তাহলে জীববিজ্ঞান খুব ভাল ভাবে আত্মস্থ করতে হবে,গাধার মত মুখস্ত না করে ভালো করে বুঝে বুঝে পড়বে। যাইহোক তোমরা ভালোকরে পড়াশুনা কর,তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

(ধন্যবাদ সকলকে)

Hasnat Rahman (CE,BUET)

 

Related Articles

Back to top button
Close