জানা-অজানা

২০২০ সালের সকল পূর্ণিমার সঠিক তিথি ও সময়সূচী

২০২০ সালের বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে সকল পূর্ণিমার তারিখ এবং সময় জানুন আমাদের এই পোস্ট থেকে।আপনারা যারা সঠিক সময়ে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে চান এজন্য সকল পূর্ণিমার সঠিক তিথি ও সময়সূচী ২০২০ নামের এ পোষ্টটির অবতারণা করেছি।

সকল পূর্ণিমার সঠিক তিথি সময়সূচী ২০২০

পূর্ণিমা সনাতন হিন্দু ধর্মের একটি অপরিহার্য বিষয় কেননা আদিকাল থেকেই হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পূর্ণিমার সাথে সংযোগ রয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি পূর্ণিমার সঠিক দিনক্ষণ ও তিথি জানা সকলের জন্য অত্যন্ত জরুরী।এ পোষ্টটি হতে পারে আপনার জন্য মহামূল্যবান কেননা এখান থেকেই আপনি পাচ্ছেন ২০২০ সালের সকল পূর্ণিমা ব্রতের সঠিক সময়সূচী।এখানে ভারত  ও বাংলাদেশ উভয় দেশের পূর্ণিমার সময়সূচী দেয়া হয়েছে।

পূর্ণিমার নাম পূর্ণিমা শুরুর ইংরেজি তারিখ পূর্ণিমা শেষের ইংরেজী তারিখ
 

 

পৌষ  পূর্ণিমা

১০ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার

ভারতীয় সময়– ভোর ২টা ৩৬মি ২৩ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়– ভোর ২টা ০৬মি ২৩ সেকেন্ডে।

১১জানুয়ারি ২০২০, শনিবার

ভারতীয় সময়– রাত্রি ১২টা ৫২মি ৫৩ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়– রাত্রি ১২টা ২২মি ৫৩ সেকেন্ডে।

মাঘী পূর্ণিমা ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার

ভারতীয় সময়– বিকাল ৪টা ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়– বিকাল ৩টা ৩৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডে

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রবিবার

ভারতীয় সময়– দুপুর ১টা ৪ মিনিট ৯ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়– দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিট ৯ সেকেন্ডে।

ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমা ৯ মার্চ, ২০২০, সোমবার

ভারতীয় সময়– ভোর ৩টা ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়– ভোর ২টা ৩৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে

৯ মার্চ, ২০২০, সোমবার

ভারতীয় সময়– রাত্রি ১১টা ১৮ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়– রাত্রি  ১০টা ৪৮ মিনিট ২৮সেকেন্ডে।

চৈত্র পূর্ণিমা ৭ এপ্রিল, ২০২০

ভারতীয় সময়– ১২টা ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-১১টা ৩২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে

৮ এপ্রিল ,২০২০

ভারতীয় সময়– সকাল ৮টা ৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়– সকাল ৭টা ৩৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে।

বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২০ ৬ মে ,বুধবার,২০২০

ভারতীয় সময়– সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-সন্ধ্যা ৭টা ১৬ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে

৭মে ,বৃহস্পতিবার ,২০২০

ভারতীয় সময়– বিকাল ৪টা ১৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়-বিকাল ৩টা ৪৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে।

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা ৫ জুন, শুক্রবার ,২০২০

ভারতীয় সময়– বিকাল ৩টা ১৭ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-বিকাল ২টা ৪৭ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে

৬ জুন শনিবার,২০২০

ভারতীয় সময়– ভোর ১২টা ৪৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়-ভোর ১২টা ১৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে।

আষাঢ়ী পূর্ণিমা বা গুরু পূর্ণিমা ৪ জুলাই,২০২০

ভারতীয় সময়– সকাল ১১টা ৩৫ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-সকাল ১১টা ০৫ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে

৫ জুলাই,২০২০

ভারতীয় সময়– সকাল ১০টা ১৬ মিনিট ৮ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়-সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট ৮ সেকেন্ডে।

শ্রাবণী পূর্ণিমা বা রাখি পূর্ণিমা ২ আগস্ট,২০২০

ভারতীয় সময়– রাত ৯টা ৩১ মিনিট ২ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-রাত ৯টা ০১ মিনিট ২ সেকেন্ডে

৩ আগস্ট,২০২০

ভারতীয় সময়– রাত ৯টা ৩০ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়-রাত ৯টা ০০ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে।

ভাদ্র পূর্ণিমা বা মধু পূর্ণিমা ১ সেপ্টেম্বর,২০২০

ভারতীয় সময়– সকাল ৯টা ৪০ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-সকাল ৯টা ১০ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে

২ সেপ্টেম্বর,২০২০

ভারতীয় সময়– ১০টা ৫৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-১০টা ২৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে

আশ্বিনী পূর্ণিমা বা কোজাগরী পূর্ণিমা ৩০ অক্টোবর,২০২০

ভারতীয় সময়– সন্ধ্যা ৫টা ৪৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-সন্ধ্যা ৫টা ১৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে

৩১ অক্টোবর,২০২০

ভারতীয় সময়– রাত ৮টা ২১ মিনিট ৭ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়-রাত ৭ টা ৫১ মিনিট ৭ সেকেন্ডে।

কার্তিক পূর্ণিমা ২০২০ ২৯ নভেম্বর,২০২০

ভারতীয় সময়– রাত ১২টা ৪৯ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-রাত ১২টা ১৯ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে

৩০ নভেম্বর,২০২০

ভারতীয় সময়– দুপুর ৩টা ১ মিনিট ২১ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-দুপুর ২টা ৩১ মিনিট ২১ সেকেন্ডে

মার্গশীর্ষ পূর্ণিমা ২৯ ডিসেম্বর,২০২০

ভারতীয় সময়– সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে

বাংলাদেশ সময়-সকাল ৭টা ২৫ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে

৩০ ডিসেম্বর,২০২০

ভারতীয় সময়– সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট ২১ সেকেন্ডে।

বাংলাদেশ সময়-সকাল ৮টা ২৯ মিনিট ২১ সেকেন্ডে।

*পৌষ পূর্ণিমা ২০২০

পৌষ পূর্ণিমা কে মঘা পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে।হিন্দুদের কাছে মঘা অত্যন্ত পবিত্র সময় এই সময় থেকে পূণ্যস্নানের প্রথা শুরু হয়।পৌষ পূ্র্ণিমায় পূণ্যস্নান করলে মানুষ জন্ম-মৃত্যু বন্ধন থেকে মুক্তি পেয়ে বরাবরের মত অমৃতলোকে চলে যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। মনে করা হয় যে পৌষ পূর্ণিমায় পূণ্যস্নান করলে মোক্ষ লাভ হয়।

*মাঘী পূর্ণিমা ২০২০

মাঘ বাংলা মাসের দশম মাস। এই মাসের আরেক নাম মাঘা। মাঘ বাংলা সনের দশম মাস এবং ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শকাব্দের একাদশ মাস। বাংলা মাঘ এবং শকাব্দের “মাঘা” নামটি এসেছে মঘা নক্ষত্রে সূর্যের অবস্থান থেকে। খনার বচনে রয়েছে, “যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পূণ্যি দেশ”। মাঘ মাসের পূর্ণিমাকে বলা হয় মাঘী পূর্ণিমা ‌‌‌। মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হয়। এই মাসে ব্রাহ্ম সমাজের মাঘোৎসব পালিত হয়। বহু কবিতায় মাঘ মাস একটি বিষয় হিসাবে উপস্থাপিত।

* ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমা ২০২০

বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সহিত রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। দোলযাত্রার দিন সকালে তাই রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।


* চৈত্র পূর্ণিমা ২০২০

চৈত্র পূর্ণিমা  হল হনুমানজীর জন্মতিথি আর এ দিনে  হনুমান জয়ন্তী পালন করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিলে চৈত্র পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে এটিা শুরু হবে।

* বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২০

বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উৎসব। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। এই পবিত্র তিথিতে বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। এই দিনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীগণ স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন।

* জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা ২০২০

হিন্দু ধর্মে জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমার বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। ভবিষ্য পুরাণ বলছে, এই দিন তীর্থ স্নান, দান ও ব্রতের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় দানধ্যান ও তীর্থ স্নান করলে সব পাপ নাশ হয়, মুক্তির পথ প্রশস্ত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। মহিলারা জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায়  স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করে ভগবান শঙ্কর ও ভগবান বিষ্ণুর পূজা করেন। বটবৃক্ষের পূজা এবং ব্রতও করেন তাঁরা।

*আষাঢ়ী পূর্ণিমা বা গুরু পূর্ণিমা ২০২০

হিন্দু বিশ্বাস মতে, এই দিন ‘মহাভারত’ রচয়িতা মহির্ষি বেদব্যাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন মুণি পরাশর ও মাতা সত্যবতীর ঘরে; ফলে এই দিনটিকে কখনো কখনো ‘ব্যাস পূর্ণিমা’-ও বলা হয়

*শ্রাবণী পূর্ণিমা বা রাখি পূর্ণিমা ২০২০

রাখি পূর্ণিমা বা রাখি বন্ধন বা রক্ষা বন্ধন এই উৎসবটির মাধ্যমে ভাইবোনের মধ্যের পবিত্র সম্পর্ক পালন করা হয়। রাখী পূর্ণিমার আরেক নাম শ্রাবনী পূর্ণিমা বা সৌভাগ্য পূর্ণিমা। রাখী পূর্ণিমার ঠিক পাঁচ দিন আগে শ্রী কৃষ্ণের ঝুলন পূর্ণিমা শুরু হয়। এবং সাত দিন পর শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।এই দুই লীলার মাঝে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই রাখী পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় তাই এর আরেক নাম শ্রাবণী পূর্ণিমা।

* ভাদ্র পূর্ণিমা বা মধু পূর্ণিমা ২০২০

মধু পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ ধর্মানুসারীরা ও হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে থাকে।হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই পূর্ণিমাতে সত্যনারায়ণের পুজো করলে প্রত্যেকের জীবনে অশুভ ছায়া কেটে যায়। এ দিন অনেক বাঙালি মহিলাই, উমা-মহেশ্বরের পুজো করে থাকেন আর অন্যদিকে এ দিনটি উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায় বুদ্ধ পূজা, সীবলী পূজা, শীল গ্রহণ, সংঘদান, মধু ও ভেষজ দান, বাতি প্রজ্বলন, ভিক্ষু সংঘকে পিণ্ডদানসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে থাকে।

* আশ্বিনী পূর্ণিমা বা কোজাগরী পূর্ণিমা ২০২০

কোজাগর বা কোজাগরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ “কে জেগে আছ?” প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে ধনসম্পদ, প্রাচুর্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী বিষ্ণুলোক হতে পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে “কে জেগে আছ?” এই প্রশ্ন করেন । যে সেই রাতে লক্ষ্মীব্রত করে জেগে থাকে দেবী তার কাছ থেকে সাড়া পান এবং তার গৃহে প্রবেশ করে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করেন।

*কার্তিক পূর্ণিমা ২০২০

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, কার্তিক পূর্ণিমায় মহাদেব ত্রিপুরাসুর নাম এক রাক্ষসকে বধ করেন। এই ত্রিপুরাসুর স্বর্গ আক্রমণ করে সব ছারখার করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ত্রিপুরাসুর বধের আনন্দে কার্তিক পূর্ণিমার দিন দীপাবলি পালন করেন দেবতারা।

* মার্গশীর্ষ পূর্ণিমা ২০২০

মার্গশীর্ষ পূর্ণিমা অগ্রহায়ণ মাসে হয়ে থাকে। মনে করা হয় যে গোপীরা অগ্রহায়ণ মাসের এই তিথিতে কাত্যায়নীব্রত করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button