মেডিকেল সেকেন্ড টাইম ভর্তি প্রস্তুতি নিবে কিভাবে??

স্বপ্ন চায় আকাশ ছুঁতে
সাধ্য আমার হয় কি তাতে?
সাধ আছে সাধ্য নেই
তাই বলে কি চাইতে নেই?
হব আমি ডাক্তার
তাই হলাম আজ সেকেন্ড টাইমার।


হ্যা, ঠিক ধরেছো।

 

  • সবার আগে যেটা দরকার সেটা হল হতাশা দূর করা।কি ঠিক বললাম তো? একদম না। যতদিন পর্যন্ত কোথাও চান্স না পাচ্ছো ততদিন হতাশা তোমাকে ছাড়বে না।

★যা করতে হবে: ভুলে যেতে হবে তুমি সেকেন্ড টাইমার। মনটাকে সতেজ রাখতে হবে সব সময়।মন খারাপ থাকলে আর যাই হোক পড়াশোনা হবে না।

  • লক্ষ্য ঠিক আছে তো? হ্যা ভাইয়া, একদম। এইবার পড়ে সব কিছু উদ্ধার করে দিব। বুয়েট, মেডিকেল সব কিছুতে চান্স পাবো।

★যা করা উচিত: আগের বছর যে কাজটা করেছিলে এবার সেই ভুলটা করা চলবে না।সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মেডিকেল লক্ষ্য থাকলে শুরু থেকে শুরু করা ভাল। কারণ সেকেন্ডটাইমারদের ৫ মার্ক কাটা। তাই ৫ মার্ক বেশি পেতে গেলে আশা করি বুঝতেই পারছো কোন লেভেলের পড়াশোনা করতে হবে।

@[1528540337177685:]

  • আমি মেিডকেল কোচিং করতেছি। ম্যাথের জন্য কি করব?

★যা করা উচিত: অবশ্যই প্রতিদিন ম্যাথ প্রাকটিস করা উচিত। সেক্ষেত্রে কোনো প্রাইভেট পড়তে পারলে ভাল হয়। তা দিয়ে তুমি তোমার দুর্বল অধ্যায় গুলো আবার ভাল করে নিতে পারবে। কোচিং এ অতটা কেয়ার পাবা না যতটা প্রাইভেট পড়লে পাবা। তবে প্রতিদিন অন্যান্য সাবজেক্টের পাশাপাশি ম্যার্থ, পদার্থের ম্যাথ গুলো করবে। বাদ দিবা, পরে করবা এটা করেছো তো মরেছো। সময় কিন্তু কম।

  • যদি এবারও মেডিকেল না হয় তবে কি আমি অপদার্থ? আমার দ্বারা কিছু হবে না?

★যা করা উচিত: মেডিকেল বাদে আরও অনেক ভাল ভাল বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে সেকেন্ডটাইমারা পরীক্ষা দিতে পারবে। যেমন: জাহাঙ্গীর নগর, রাজশাহী, শাহ জালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি, বাংলাদেশ কৃষি, শেরে বাংলা কৃষি সব মিলায় ২৯টি(সম্ভাব্য) বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমি পরীক্ষা দিতে পারবে। এখন তুমিই বলো তোমার জীবন কি শেষ? সবে তো শুরু।

  • কি খবর পড়া কত দুর? ভাইয়া অনেক তো পড়লাম একটু রেষ্ট নি। একটু চিল করি এখনো তো অনেক সময়।

★যেটা করা উচিত: তোমাদের মনে হওয়া স্বাভাবিক অনেক পড়েছো, অনেক কষ্ট করেছো একটু রেস্ট নি, সময় তো আছে পরে পড়বো। কিন্তু ভাইয়া তুমি একটু হিসাব করো তো কত দিন সময় আছে। সব মিলায় ৮ মাস সময় পাবা। পড়া হবে এক পৃথিবী থেকেও অনেক বেশি। পড়বা রকেটের গতিতে আর ভুলে যাবা আলোর গতিতে। হতাশার চাদরে তোমাকে নাযেহাল করে দিবে। তাই সময় নষ্ট না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রুটিন মাফিক প্রতিদিন ৮/১০ ঘন্টা পড়লে তোমার চান্স পাওয়া কেউ আটকাতে পারবে না। মজা করো, চিল করো সব করো তবে ১০ ঘন্টা পড়া শেষ করে।

  • বাবা তুমি যেন কোথায় চান্স পেয়েছো? পাড়ার আন্টি সমাজ, আত্মীয় স্বজন, শুভাকাক্ষী নামক কীট তোমার এবং তোমার বাবা মায়ের কান ঝালা ফালা করে দিতে পারে।
@[1528540337177685:]
  • যা করা উচিত: পাত্তা না দেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মানে টেকনিকালি কথাটা প্রতিহত করতে হবে। মনে রেখ মানুষকে কখনও তোমার দুর্বলতা দেখাতে হয় না।কারণ দুর্বলতায় আঘাত করে তারা মজা পায়। তাই তারা বার বার আঘাত করবে । তোমাকে ছোট করবে।

পরিশেষে বলি, তোমার মনে হতে পারে তুমি কুকুরের থেকেও অধম, এর থেকে তুমি মরে গেলে ভাল হত। এই সেকেন্ডটাইম করা তোমার জন্য অভিশাপ না আর্শিবাদ তা নির্ভর করবে তোমার এই কয়দিনের কষ্টের উপর।
তোমার ভাগ্য তোমার হাতে। তুমি এই টাইম টুকু রেস্ট করবা নাকি পড়বা একান্ত তোমার ব্যাপার। মনে রেখ আল্লাহ ধৈর্য্যশীলকে পছন্দ করেন। আশা করি বুঝতে পেরেছো কোনটা করা উচিত।

লিখেছেন:অাহমেদ ইশতিয়াক মৃদুল (বায়োকেমিস্ট্রি,জাবি)

এই সম্পর্কিত আরো

Back to top button
Close