এসাইনমেন্ট

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এসাইনমেন্ট নমুনা সমাধান ২০২১ । (১১তম ও ১০ম সপ্তাহ)

সকল সপ্তাহের ষষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর ২০২১ | ৬ষ্ঠ শ্রেণী এসাইনমেন্ট সমাধান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাওশি) এর ওয়েবসাইট dshe.gov.bd -এ প্রকাশিত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী না হওয়ার কারণে এখনও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে গত বছরের ন্যায় ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ধারাবাহিকভাবে এ্যাসাইনমেন্ট/ নির্ধারিত কাজের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলুন, ষষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর ২০২১ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাক।

৬ষ্ঠ শ্রেণির ১১ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান যুক্ত করা হয়েছে ।

৬ষ্ঠ শ্রেণীর এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

করোনা অতিমারীর কারণে গত ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী না হওয়ার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়া যেন ব্যহত না হয় তাই গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ন্যায় এ বছরও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

ষষ্ঠ শ্রেণীর এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি সপ্তাহে ২-৩টি বিষয়ের উপর এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন বা নির্দিষ্ট কাজ দেওয়া হবে। এ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে জমা দেওয়া পর পরবর্তী সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন বা নির্ধারিত কাজ নিতে হবে। এভাবে ষষ্ঠ শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করা হবে। 

আরও পড়ুন: ৬ষ্ঠ শ্রেণির বই পিডিএফ ডাউনলোড

১১তম সপ্তাহের নমুনা সমাধান

ষষ্ঠ শ্রেণির ১১তম সপ্তাহের নির্ধারিত কাজ প্রকাশ করা হয়েছে । এই সপ্তাহে ইংরেজী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এ দুটি বিষয়ের উপর এসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে । নিচে প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হল –

ইংরেজী

৬ষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজী ৪র্থ এসাইনমেন্ট টপিক মূল বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায় – It Smells Good থেকে নেওয়া হয়েছে ।

প্রশ্ন : Fahmida loves eating. Both of her parents are good cook but she is very fond of her father’s cooking. Mr. Rahman tries different new items. It was a weekend and raining heavily outside. Mr. Rahman declared, “Hey guys, I’m going to cook for you today”. Fahmida along with her brothers and sisters cheered- Yeeh! Mrs. Rahman said….

Now complete the story in 150 words.

নমুনা উত্তর

Class 6 English assignment answer (11th Week)


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)

৬ষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি ১ম এসাইনমেন্ট টপিক মূল বইয়ের প্রথম অধ্যায়- তথ্য ও যোগাযােগ প্রযুক্তি পরিচিতি থেকে নেওয়া হয়েছে ।

প্রশ্ন : “কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে তােমার স্কুল বন্ধ আছে। তােমার বাবা তার জমির ফসলের উন্নয়নে পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসে যেতে পারছেন না। তােমার দাদী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তােমার মা, তােমার বাবাকে প্রয়ােজনীয় সহযােগিতার জন্য ডাক্তারকে ফোন করতে বলেন।”

উপরের প্রেক্ষাপটের আলােকে- ‘দৈনন্দিন জীবনযাপনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার’ শিরােনামে একটি প্রবন্ধ লিখ (২০০ শব্দ)

নমুনা উত্তর

“দৈনন্দিন জীবনযাপনে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার”

তথ্য কথার ইংরেজি অর্থ হল ইনফরমেশন আর প্রযুক্তি কথার অর্থ হল টেকনােলজি। তথ্য প্রযুক্তি বলতে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ, আধুনিকীকরণ সম্পর্কযুক্ত প্রযুক্তিকে বােঝানাে হয়। সাধারণ অর্থে তথ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রযুক্তিকে তথ্য প্রযুক্তি বলা হয়। তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবনমানকে উন্নত, দ্রুত এবং আরামদায়ক করেছে। এজন্য আমাদের জীবনে তথ্যের গুরুত্ব অনেক। আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ থাকতে, ভালােভাবে বাচতে এবং বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারি। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রেডিও, ইমেইল, মােবাইল ফোন ইত্যাদি হলাে আইসিটি। বর্তমানে আইসিটি ব্যবহার করে সহজেই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিস্তার ও বিনিময় করা যায়। বর্তমানে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্র, চিকিৎসাক্ষেত্রে কৃষিক্ষেত্রে, পরিবেশ ও আবহাওয়া সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য প্রয়ােজনীয় উপাদানগুলাে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজলভ্য করেছে। করােনাকালীন পরিস্থিতির জন্য সকল বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে শ্রেণিকক্ষে
পাঠদান এবং পাঠ গ্রহণ সম্ভব নয়। কিন্তু তাই বলে শিক্ষার্থীদের পড়াশােনা কিন্তু থেমে নেই। তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে | তারা এখন ঘরে বসেই তাদের প্রয়ােজনীয় পড়াশােনা চালিয়ে যেতে পারছে। শিক্ষা বিষয়ক যেকোনাে সমস্যার
সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা ইউটিউব এবং গুগলের সাহায্য নিতে পারে। শেখানে তারা বিনামূল্যে ক্লাস করতে পারে। | তারা প্রয়ােজনে ইন্টারনেট থেকে যে কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তাদের শিক্ষাকে আরাে সহজ করার জন্য যুক্ত হয়েছে ই-বুক যার মাধ্যমে তারা তাদের মােবাইল এর মাধ্যমে বিনামূল্যে বই পড়তে পারে। পরিশেষে বলা যায় তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যােগ করেছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার

চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি দ্রুত পরির্তন নিয়ে এসেছে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এখন বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তির সুবিধার জন্য, ডাক্তাররা আর অনুমানের উপর নির্ভর করেন না। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রােগীর নিজের শরীরের যত্ন সহকারে পরীক্ষা করে রােগ নির্ণয় করা জরুরী। এবং এই কাজটি প্রযুক্তির সহায়তায় করা যেতে পারে।শুধু তাই নয়, প্রাপ্ত তথ্যগুলি ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। যখন ঔষধ নির্ধারণের কথা আসে তখন তথ্য প্রযুক্তির কারণে এটিও সঠিক। চিকিৎসার প্রয়ােজনে নতুন সরঞ্জামও তৈরি করা হচ্ছে। অন্যান্য স্তরের গবেষণা তথ্য প্রযুক্তি দ্বারা সম্ভব হয়েছে। আগে শুধুমাত্র রােগের লক্ষণগুলি হ্রাস করা হত, এখন রােগের আসল কারণ খুঁজে বের করে এটি অপসারণ করা প্রয়ােজন।শুধু তাই নয়, এখন সমস্ত লােকেরা যারা একই ওষুধ গ্রহণ করছে তাদের ভবিষ্যতে প্রতিটি ব্যক্তির। জন্য পৃথক ওষুধ থাকবে। এমনকি ভবিষ্যতে, সার্জনরা হাজার হাজার মাইল দূরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে রােগীদের উপর পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। তাই ওষুধের ক্ষেত্রে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির অবদান অপরিসীম।

কৃষি ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষি ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। একজন কৃষক তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমে চাষাবাদের সঠিক পদ্ধতি জানতে পারে। ফসলে কোন রােগ দেখা দিলে সে ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন আর্টিকেল দেখে সমস্যা সমাধান করতে পারে। তার জমিতে কতটুকু সার প্রয়ােগ করতে হবে তাও সে ইন্টারনেট থেকে জানতে পারে। সর্বোপরি বর্তমানে কোন ফসলের কত দাম চলছে তা জেনে সে নিজের ফসল ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারে। পরিশেষে বলা যায় বাংলাদেশের কৃষিকে আরও উন্নত করতে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম।

পরিবেশ ও আবহাওয়া

আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি। ১১ মে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মােবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লে তখন স্যাটেলাইটের . মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় যােগাযােগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হয় এবং প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোনাে ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর জনগণের কাছে খুব সহজেই পৌঁছানাে যায়। ফলে জনগণ প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এছাড়া যারা নদীতে মাছ ধরতে যায় তাদেরকে রেডিওর মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া যায়। তাই বলা যায় পরিবেশ ও আবহাওয়ার তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের জীবনযাপনে তথ্য ও প্রযুক্তি ওতপ্রােতভাবে জড়িয়ে গেছে। তবে এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। তাই মানবসভ্যতার যথার্থ উন্নয়ন সম্ভব করতে দরকার প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সব ধরনের অপব্যবহার থেকে তথ্যকে সরিয়ে রাখা এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

বিশেষ সতর্কতা : উপরোক্ত নমুনা উত্তরগুলো দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হল, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বিষয়ের উপর ধারণা দেওয়া । ধারণা নেওয়ার পর অবশ্যই নিজের মত করে এসাইনমেন্ট লিখতে হবে । উল্লেখ্য যে, হুবহু লেখার কারণে আপনার উত্তর পত্রটি বাতিল হতে পারে । এ সংক্রান্ত কোন দায়ভার Admissionwar -এর নয় ।

১০ সপ্তাহের নমুনা উত্তর

বাংলা ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাচীন নগর সভ্যতার নাম, অবস্থান, প্রাপ্ত নিদর্শন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ছকের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত কর এবং বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।

উত্তর

১৮ জুলাই ২০২১

বরাবর

প্রধান শিক্ষক

মঙ্গলগ্রহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

বিষয়: বাংলাদেশের প্রাচীন নগর সভ্যতার তালিকা এবং বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিয়ে প্রতিবেদন।

জনাব,
বাংলাদেশের প্রাচীন নগর সভ্যতার তালিকা এবং বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য আদিষ্ট হয়ে নিচের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করছি।

 

সভ্যতার নাম অবস্থান প্রাপ্ত নিদর্শন বানিজ্যিক গুরুত্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্য
ওয়ারী বটেশ্বর ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নগর সভ্যতার( সিন্ধু) পর সভ্যতার ইতিহাসে এটি প্রাচীন বাংলার দ্বিতীয় নগর সভ্যতা।

প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত নরসিংদী জেলার । বেলাব উপজেলার দুটি গ্রামের বর্তমান নাম । উয়ারী-বটেশ্বর। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গড়ে উঠেছিল একমাত্র মাটির নিচে
প্রাপ্ত এই নগর সভ্যতা উয়ারী-বটেশ্বর ।

  • ধাতব অলংকার
  • স্বল্প মূল্যবান পাথর ও কাচের
    পুঁতি
  • চুন-সুরকির রাস্তা
  • ইট নির্মিত স্থাপত্য ও দুর্গ
  • ছাপাঙ্কিত রৌপ্য
    মুদ্রা
  • পাথরের বাটখারা
  • হাইটিন ব্রেজ নির্মিত পাত্র ও
    রােলেটেড মৃৎপাত্র
  • প্রাচীন চিত্রশিল্প
  • হাতিয়ার ।
ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা এবং নয়নাভিরাম বাটখারা বাণিজ্যের পরিচায়ক। এখানে ছিল একটি নদীবন্দর। হাইটিন ব্রোঞ্জ নির্মিত পাত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে উয়ারীবটেশ্বর এর বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা বলা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের | শিক্ষক ড. সুফি
মােস্তাফিজুর রহমানের মতে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি সমৃদ্ধ, সুপরিকল্পিত, প্রাচীন গঞ্জ বা বাণিজ্য কেন্দ্র । সমুদ্র বাণিজ্যের। সাথে এ অঞ্চলটি যুক্ত ছিল। “সৌনাগড়া ” যা গ্রিক ভূগােলবিদ, টলেমী তার বই ” জিওগ্রাফিয়াতে”। উল্লেখ করেছিলেন
উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত ধাতব অলংকার, স্বল্প মূল্যবান পাথর ও কাচের পুঁতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে। এখান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন চিত্রকলা তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারনা দেয়।
মহাস্থানগড় (পুণ্ড্রনগর) ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নগর সভ্যতার( সিন্ধু) পর সভ্যতার ইতিহাসে। এটি প্রাচীন বাংলার দ্বিতীয় নগর সভ্যতা।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলােমিটার  উত্তরে করতােয়া নদীর তীরে মহাস্থানগড় (পুণ্ড্রনগর) অবস্থিত।
  • প্রাচীন ব্রাহ্মী
    লিপি
  • পােড়ামাটির শিল্পকর্ম
  • প্রাচীন বৌদ্ধবিহার  নগরের রাস্তাঘাট
  • ঘরবাড়ি
  • অলংকার ও মুদ্র
  • ভাস্কর্য
  • বিভিন্ন যুগের মুদ্রা
  • কুপ
  • মন্দির
  • তৈজসপত্র
  •  মন্দির ও মসজিদ
  • তােরণ
  • বুরুজ
  • রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রা
  • কালাে মসৃণ মৃৎপাত্র
  • পােড়ামাটির ফলক মূর্তি সহ
  • মাটি ও ধাতব দ্রব্যাদি
১৫০০ সাল পর্যন্ত করতােয়া নদীর পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা এ মহাস্থানগড়ই ছিল। তখনকার মানুষের রাজধানী প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল। যখন ইউরােপ – আমেরিকা সভ্য হতে শেখেনি, তখন থেকেই এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য করেত লােক আসত । পৃথিবীর অধিকাংশ নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নদীর তীরে কারণ নদী থাকায় এক জায়গা থেকে অন্য
জায়গায় যেতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে নদী বড় ভূমিকা রাখে। নদীর সাথে সমুদ্র যােগাযােগ সুবিধা, নগর সভ্যতা এবং কৃষি ফসল এশিয়া ইউরােপ বণিকদের কাছে ছিল এটি গুরুত্বপুর্ণ বানিজ্য নগরী।
পুন্ড্রনগরের সঙ্গে বাণিজ্যিক কারণে ভারত উপমহাদেশের অনেক নগর বন্দরে যােগাযােগ ছিল ফলে বহু বাণিজ্যিক ব্য”
পুন্ড্রনগরের সঙ্গে বাণিজ্যিক কারণে ভারত উপমহাদেশের অনেক নগর বন্দরে যােগাযােগ ছিল ফলে বহু বাণিজ্যিক ও
সাংস্কৃতিক লেনদেন ঘটেছিল।
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি, পােড়ামাটির শিল্পকর্ম, প্রাচীন
ব্রাহ্মী লিপি, পােড়ামাটির শিল্পকর্ম, প্রাচীন বৌদ্ধবিহার, অলংকার , কাচের পুঁতি, মাটির তৈজসপত্র, মসজিদ, মন্দির, মাজার শরীফ, শীলাদেবীর ঘাট, বেহুলার বাসর ঘর ইত্যাদি বাংলার
ইতিহাস, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের প্রাচীন। সাংস্কৃতির রুপরেখা হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সালে মহাস্থানগড় কে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘােষনা করা হয়েছিল।

 


নিম্নে বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হলােঃ

আজকের বাংলাদেশে যে জীবনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তার শুরু ও বিকাশ হঠাৎ করে হয়নি। প্রাচীন বাংলার মানুষের হাতে রচিত হয়েছে এর ভিত।”আর কালে কালে নানা পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে এর বিকাশ ঘটেছে। তাই আজকের বাংলাদেশের সমাজে অনেক পরিবর্তন এলেও আগের দিনের অনেক বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রয়েছে। কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে একেবারে আলাদা ধারাও লক্ষ করা যায়। মানুষের জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটে। আজকের বাংলাদেশের সংস্কৃতি গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে এতে প্রাচীন বাঙালি সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে বাঙালির মধ্যে অসাম্প্রদায়িক জীবনধারা বিকাশে প্রাচীন বাংলার প্রভাব স্পষ্ট।

সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ধর্ম। বাংলাদেশের মানুষের বেশির ভাগ মুসলমান। কিন্তু এদেশে ইসলাম ধর্ম এসেছে মধ্যযুগে। তাই প্রাচীন বাংলায় ইসলামের প্রভাব ছিল না। তখন হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মই ছিল সমাজের প্রধান ধর্ম। এখানে প্রাচীন বাংলা বলতে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের সীমানাকে বােঝানাে হচ্ছে। ধর্মবিশ্বাসের দিক থেকেও আমাদের দেশে বৈচিত্র্য কম নয়। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্ম এখানে পালিত হচ্ছে । ইসলাম ধর্ম প্রচারে মুসলিম সুফি ও সাধকরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এভাবেই আজ বাংলাদেশ মুসলিমপ্রধান দেশ।

প্রাচীন বাংলার অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। এ সময় কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। ধান ছিল প্রধান ফসল। প্রাচীন বাংলায় উৎপাদিত গুড় ও চিনি বিদেশে রপ্তানি হতাে। তুলা সরিষা ও পান চাষের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি ছিল। অর্থাৎ প্রাচীন বাংলার কৃষিতে সমৃদ্ধ ছিল। বর্তমান বাংলার কৃষির সাথে প্রাচীনকালে উৎপাদিত ফসলের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বিদেশি নানা জাতের ফসল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রাচীন যুগ থেকেই বাংলাদেশের তাতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুনতে পারদর্শী ছিল। প্রাচীন বাংলার মসলিন কাপড় ছিল পৃথিবী বিখ্যাত তখন উন্নত মানের মৃৎপাত্র, ধাতব পাত্র, অলংকার নির্মাণ হত। বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে মসলিন কাপড়ের অস্তিত্ব না থাকলেও যারা মসলিন কাপড় তৈরি করতেন তাদের বংশধররা বর্তমানে জামদানি শাড়ি তৈরি করছেন। বর্তমান বাংলাদেশ এখন পােশাক শিল্পে পৃথিবীর অন্যতম অবস্থানে রয়েছে।

প্রাচীন যুগে বাংলাদেশ বিনােদন ও ধর্ম-কর্মের অংশ হিসেবে নাচ-গান, নাটক, মল্লযুদ্ধ ও কুস্তি খেলার প্রচলন ছিল। বাদ্যযন্ত্র হিসেবে কাসর, করতাল, বীণা, বাঁশি, মৃদঙ্গ দেখা যায়। তবে বর্তমানে এসব পুরাতন বাদ্যযন্ত্রের কয়েকটি সাথে মিল খুঁজে পাওয়া গেলেও বর্তমান বাঙালি বাদ্যযন্ত্র হিসেবে রয়েছে ঢাক-ঢােল, হারমােনিয়াম, পিয়ানাে, বেহালা ইত্যাদি। প্রাচীন যুগের মঞ্চনাটকের প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমান সংস্কৃতির আগ্রহ টেলিভিশন কিংবা মােবাইলে নাটক দেখায়। বর্তমানে মঞ্চ নাটকের প্রচলন থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টেলিভিশন কিংবা মােবাইল প্রযুক্তির উপর বেশিরভাগ দর্শক নির্ভরশীল।বিভিন্ন ধর্মের কাছ থেকে পাওয়া প্রেরণা। এসব মিলে জনবৈচিত্র্যের মতােই বাঙালি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকেও লালন করে আসছে।

চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলব। এখানে প্রকৃতি যেমন সমৃদ্ধ তেমনি তার রয়েছে ভাঙাগড়ার খামখেয়ালিপনা। একে কোনভাবেই এড়িয়ে চলা সম্ভব ছিল না, এখনও অসম্ভব। তাই বলা যায় যে, প্রাচীন বাংলার ও বর্তমান বাংলার সংস্কৃতির মধ্য বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদৃশ্য আজও বিদ্যমান।

প্রতিবেদক এর নাম ও ঠিকানা:

শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

আমার দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলনকৃত ব্যায়ম ও তার উপকারিতা ।

উত্তর

ভূমিকাঃ সুস্থ দেহেই সুস্থ মনের বাস। আর সুস্থ-সুন্দর মনই পারে একটা উন্নত জাতির জন্ম দিতে। সুস্থ ও উন্নত জাতি দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে আরােহণ করাতে পারে। দেশকে সমৃদ্ধিশালী করার এ ধারাবাহিকতাকে ক্রমানুসারে সাজালে আমার পাই, সুস্থ দেহ- সুস্থ মন, উন্নত জাতি, উন্নত দেশ। অথাৎ গােড়ার কথা হলাে শারীরিক সুস্থতা। এর জন্যে চাই নিয়মিত ব্যায়াম। কেননা ব্যায়মই দৈহিক শক্তি লাভের তথা সবল স্বাস্থ্য লাভের পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

ব্যায়ামঃ দেহ ও মনের সুস্থতা ও আনন্দলাভের জন্য শারীরিক অঙ্গ সঞ্চালনকে ব্যায়াম বলে। ব্যায়াম যেকোন শারীরিক কার্যক্রম যা শারীরিক সুস্থতা রক্ষা বা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এর অপর একটি অর্থ হল শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত আন্দোলন। খেলাধুলাও ব্যায়াম এর অন্তর্ভুক্ত। খেলাধুলার মাধ্যমে অঙ্গ সঞ্চালন হয় এবং আনন্দ লাভ করা যায়। বিভিন্ন চিত্ত বিনােদন মূলক খেলার মাধ্যমে অঙ্গসঞ্চালন বা ব্যায়াম করা যায়। শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা রক্ষার্থে ব্যায়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রমাণিত। ব্যায়ামের সাথে জীবনের সম্পর্কঃ ব্যায়ামের সাথে জীবনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। জীবনে সফল হতে হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যায়াম মানুষের মৃত্যুঝুঁকি কমায়। পরিমিত ব্যায়াম মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। মানুষের ব্যক্তিত্ব তৈরিতে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যায়াম এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলাবােধ ও নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে ওঠে। যা প্রত্যাহিক জীবনে সুশৃংখল জীবনযাপনের সাহায্য করে। সামাজিক গুণাবলী অর্জনে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের জীবনে ব্যায়ামের অবদান অনস্বীকার্য।

ব্যায়ামের প্রকার: ব্যায়াম দুই ধরনের। যথাঃ

১) সাধারণ ব্যায়ামঃ শরীর গরম করার জন্য যে কোন ধরনের ব্যায়ামকে সাধারণ ব্যায়াম বলে।

২) নিদিষ্ট ব্যায়াম: কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সকল অঙ্গের উন্নতির জন্য যে ব্যায়াম হয় তাকে নির্দিষ্ট ব্যায়াম বলে।

আমার অনুশীলনকৃত একটি ব্যায়াম এর তালিকা নিয়ে তৈরি করা হলােঃ

ক্রমিক নং

অনুশীলনকৃত ব্যায়াম

প্রকার

পুশ আপ, সিট আপ,বডিবেন্ডিং ফরওয়ার্ড ও সাধারণ ব্যায়াম হাফ সিটেড এলবাে ব্যালেন্স। সাধারণ ব্যায়াম

স্পট জাম্প, দৌড়, জাম্পিং ও দরির লাফ নির্দিষ্ট ব্যায়াম

উপকারিতাঃ ব্যায়ামের মাধ্যমে যেসব উপকার পাওয়া যায় তা সংক্ষেপে নিম্নে উপস্থাপন করলামঃ

(১) অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উন্নতিঃ ব্যায়াম দেহ কাঠামাের সুষম উন্নতি ও বৃদ্ধি সাধন করে। দেহের উন্নতির সাথে সাথে মনকে সতেজ করে। ফলে শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ে। ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং হজমশক্তি ও রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

(২) পাঠের একঘেয়েমি দূর করেঃ শ্রেণিকক্ষে একটানা লেখাপড়া করলে। ক্লান্তি ও একঘেয়েমি আসে । লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা”করলে। পাঠের একঘেয়েমি ও মানসিক ক্লান্তি দূর হয়, মনে সজীবতা আসে ও পড়াশােনায় মন বসে ।

(৩) স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বিত উন্নয়নঃ শৈশবে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্রুত বেড়ে ওঠে। শরীর বৃদ্ধি পেলেও অনেক সময় তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানসিক বিকাশ হয় না। এর সমন্বয় ঘটানাের জন্য সঠিক নিয়মে অঙ্গসঞ্চালন প্রয়ােজন। হাত, পা ও শরীরের ব্যায়াম একসাথে করতে হবে। শুধু হাতের ব্যায়াম করলে হাতের শক্তি বাড়বে আবার পায়ের ব্যায়াম করলে পায়ের মাংসপেশি বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যায়ামের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে অনুশীলন করতে হয়।

(৪) সুশৃঙ্খল জীবনযাপনঃ নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মধ্যে শৃংখলাবােধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে উঠবে । ফলে শিক্ষার্থী প্রাত্যহিক জীবনে সুশৃংখল জীবনযাপনে অভ্যস্থ হবে ।

(৫) সামাজিক গুণাবলি অর্জনঃ দলগত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করলে শিক্ষক বা দলনেতার আদেশ মেনে শৃঙ্খলার সাথে খেলতে হয়। খেলায় হেরে গেলেও মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করতে হয়। আদেশ মেনে চলা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, সহযােগিতা করা- এই সামাজিক গুণগুলাে ব্যায়ামের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। নিয়মিত ব্যায়াম খুবই প্রয়ােজন শারীরিক ফিটনেস ও ভালাে স্বাস্থ্যের জন্য। এটা বড় বড় রােগ যেমন হৃদরােগ, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস ও অন্যান্য রােগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তাই সুস্থ থাকতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই ।

সিদ্ধান্তঃ সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে দৈহিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য শরীরচর্চার সূত্রপাত হয়। কেননা যেকোনাে সৃষ্টির পেছনে যে অক্লান্ত পরিশ্রম দরকার তার জন্য শারীরিক দক্ষতা সর্বাগ্রে বিবেচ্য। তাই সভ্যতার গােড়াপত্তনের সাথে সাথেই শরীরচর্চার প্রয়ােজনীয়তা উপলব্ধি হয়। আমাদের দেশ দারিদ্র্যনির্ভর দেশ। দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্ত করতে হলে প্রযােজন উৎপাদনমুখী ব্যাপক পরিকল্পনা আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে প্রযােজন দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি। আর শরীরচর্চার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সেই জনশক্তি। তাই জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে হলে নিয়মিত এবং পরিমিত শরীরচর্চার প্রতি মনােযােগী হতে হবে।

পরবর্তী সপ্তাহের বিষয়সমূহ

  • ১১ তম সপ্তাহ- ইংরেজী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
  • ১২ তম সপ্তাহ-  বিজ্ঞান এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা

৯ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট সমাধান

বাংলা এসাইনমেন্ট

নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অথবা কারাে কাছ থেকে শােনা একটি ভ্রমণ কাহিনির বর্ণনা দিয়ে ১৫০ শব্দের মধ্যে একটি নিবন্ধ রচনা কর।

বাংলা অংশের উত্তর দেখুন এখান থেকে 


বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট

তােমার চারপাশে দেখা বিভিন্ন শ্রেণিভুক্ত দশটি প্রাণীর নাম বাছাই করে ছকে শ্রেণিবিন্যাস কর। মানবজীবনে এদের গুরুত্ব উল্লেখ করে এদের সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়- এ লক্ষ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি ।

বিজ্ঞান অংশের উত্তর দেখুন এখান থেকে 

৮ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট সমাধান

  • ইংরেজী এসাইনমেন্ট সমাধান

Think of a person who is a service provider in your school/ locality or at your home. We know, during the lock-down some of these people lost their jobs and thus faced different types of problems.

ইংরেজী অংশের উত্তর দেখুন এখান থেকে

  • চারুকলা এসাইনমেন্ট সমাধান

লােকশিল্পের যে কোনাে একটি উপাদান প্রস্তুতকরণ।

উত্তর:

শখের হাড়ি

বাঙালীর জীবনসম্পৃক্ত বিবিধ শৌখিন শিল্পোকরণের মধ্যে শখের হাড়ি অন্যতম। এর রং, নকশা, মােটিফ এবং স্টাইলের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় চিরায়ত বাঙালি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আদিমতম ইতিহাসের স্মারক। পণ্য হিসেবে বাংলার শখের হাড়ির | ঐতিহ্য অনেক পুরনাে। উৎসবপ্রিয় বাঙালীর প্রতিদিনের জীবন, ধর্ম-সংস্কৃতি, আনন্দ| বেদনা এবং চিন্তার সাথে শখের হাড়ি একাকার হয়ে আছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলভেদে মাটির তৈরি পাত্রের নানা বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ঠ্য গড়নে, অলংকরণে ও আকারে লক্ষণীয়।। শখের হাড়িতে রং করার জন্য প্রথমে তেঁতুলের বিচি ভেজে উপরের লাল খােসা ফেলে | দিয়ে তা পানিতে ভিজিয়ে হেঁচে জ্বাল দিয়ে আঠা বের করা হয়। ঐ আঠাতে চক পাউডার দিয়ে হাড়িতে প্রলেপ দেওয়া হয়।এইভাবে দুইবার প্রলেপ দিতে হয়। তারপর পিউরি। | (হলুদ রং) তেঁতুলের বিচির আঠা দিয়ে আরেকবার প্রলেপ দেওয়া হয়। তারপর রং অর্থাৎ নকশা করে (যেমনঃ নীল, গেরীমাটি, সবুজ) ইত্যাদি রং তেঁতুল বিচির আঠা দিয়ে | করতে হয়। লাল বা খুনি রং দুধ দিয়ে গুলিয়ে করতে হয়।

এই রং ছাগলের ঘাড়ের একগুচ্ছ চুল পানিতে ভিজিয়ে হাতের মুঠো নিয়ে ছুঁচালাে হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে কেটে তা বাঁশের কঞ্চিতে চিকন করে তার মধ্যে গােড়ার অংশটা | সুতা দিয়ে তুলির মতাে করে বেঁধে সেই তুলি দিয়ে রঙের কাজ করে।

বর্তমানে চকচকে করার জন্য রং দেওয়ার পর বার্নিশ, রজন, চাঁচ ইত্যাদির প্রলেপ। দেওয়া হয়। আগে মাছ, পাখি, হাতি, ঘােড়া, ফুল বিভিন্ন ফল, পাতা, চিরুনির ইত্যাদি নতুন নকশা করা হয়। আগে মাছ, কাঁটা, ফুল ও দলের নকশা বেশি ব্যবহৃত হতাে। বর্তমানে সেগুলাে ছাড়াও অনেক রকমের ফল, ও বিভিন্ন ডিজাইনের ফুলের নকশা তৈরি করে। প্রকৃতি থেকে দেখেই নকশা হাড়িতে তুলি করা হয়।

জনৈক শিল্পী জানান “গৌরীর বিয়ের সময়ে পালের সৃষ্ট, তখন থেকে নকশার ব্যবহৃত হয়। আগে রং ছিলনা। সে সময় আতপ চালকে পিসে পানি দিয়ে গুলিয়ে হাড়িতে বা ঘটে রঙের প্রলেপ দেওয়া হতাে। তারপর তিনটা সিঁদুরের ফোটা দিতাে, তিনটা চন্দনের ফোটা দিতাে। পরে রঙের ব্যবহার হয়।

৭ম সপ্তাহের উত্তর

  • গণিত অ্যাসাইনমেন্ট 

(ক) দেয়ালটির কালাে রঙের অংশটি কোন ধরনের ভগ্নাংশ?

(খ) দেয়ালটির কালাে এবং হলুদ অংশের গুণফল দশমিকে নির্ণয় কর।

(গ) দেয়ালটির কত অংশ রং করা বাকী রইল, তা নির্ণয়

(ঘ) ৩০ – কালাে অংশ = লাল অংশ—হলুদ অংশ ) X কমলা অংশ = কত অংশ হবে, তা নির্ণয় কর।

গণিত অংশের উত্তর দেখুন এখান থেকে

  • ইসলাম শিক্ষা এসাইনমেন্ট

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে  ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে সকল ইবাদত করা যায়, তার একটি তালিকা তৈরি কর।

উত্তর: 

ইবাদত আরবি শব্দ এর আভিধানিক অর্থ হলাে:- চুড়ান্ত বিনয়, আনুগত্য ও বশ্যতা। শারী’আতের পরিভাষায়:- প্রকাশ্য কিংবা গােপনীয় যতসব কথা ও কাজ আল্লাহ ভালােবাসেন ও পছন্দ করেন, সে সবের একটি সামষ্টিক নাম হলাে ইবাদাত।।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে সকল কাজ আমরা করি তা ইবাদত। মুমিনের হায়াতের প্রতিটি মুহূর্তই  গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু বিশেষ সময় বা মুহূর্তকে মহান আল্লাহ তাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ করেছেন।

ইবাদতকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

১. ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত – শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদত করা হয় তাকে বলা হয় ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত। যথা- দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ও রমযান মাসে রােযা রাখা। ইবাদতের মধ্যে শারীরিক ইবাদত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত – অর্থের দ্বারা যে ইবাদত করতে হয় সেগুলােকে বলা হয় ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত। যেমন: যাকাত দেওয়া , সাদকা ও দান-খয়রাত করা ইত্যাদি।

৩. ইবাদতে মালি ও বাদানি বা শরীর ও অর্থ উভয়ের সংমিশ্রণে ইবাদত –উল্লিখিত দুই প্রকার ইবাদত ছাড়াও এমন কিছু ইবাদত আছে যা শুধু শরীর দ্বারা কিংবা অর্থ দ্বারা করা যায় না। বরং শরীর এবং অর্থ। উভয়ের প্রয়ােজন হয় যেমন :হজ করা, জিহাদ করা ইত্যাদি।

প্রকারভেদ ও ধারণা অনুযায়ী বিভিন্ন ইবাদতের তালিকা 

১) নির্ধারিত সময়ে ফরজ নামাজসমূহ আদায় করা।

২) সৎ কাজের আদশে করা

৩) অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা।

৪) আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা।

৫) জামাতে সালাত আদায় করা |

৬) রাতের তাহাজ্জুদের সালাত

৭) খাবার খাওয়া।

৮) ঘুম

৯) প্রতিবেশীদের সঙ্গে খােশগল্প।

১০) গৃহপালিত পশু লালন-পালন

১১) বাচ্চাদের দেখভাল করা

১২) রান্না-বান্না করা

এছাড়াও অন্যান্য সবই ইবাদত।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাধারণত আমরা যা কিছু করি সবই। ইবাদত। কিছু আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিত্যকার ঘটনা। যদিও স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এই কাজগুলাে দুনিয়ার জীবনের জন্য, কিন্তু আমরা। যদি এ কাজগুলােই আল্লাহর হুকুম এবং নবীর তরিকা মেনে বিসমিল্লাহ | বলে শুরু করতে পারি তা হলে এগুলােও আমার পরকালের উপার্জন | হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে। বিবেচিত হবে ইবাদত হিসেবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা

১) নির্ধারিত কাজ বা এ্যাসাইনমেন্ট ঠিকভাবে সম্পদনের মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণির অর্থাৎ ৭ম শ্রেণীর পাঠ গ্রহণের ক্ষেত্রে এটি সুবিধা প্রদান করবে। এজন্য এসব এসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত আজ মনযোগ সহকারে সম্পন্ন করতে হবে।

২) নির্ধারিত কাজ বা এ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে NCTB প্রণীত ও প্রকাশিত ২০১১ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার
করা যাবে।

৩) এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর স্বকীয়তা, নিজস্বতা ও সৃজনশীলতা যাচাই করা হবে। এজন্য নােট, গাইড বা অন্য কারো লেখা দেখে নির্ধারিত কাজ বা এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিলে তা বাতিল বলে গন্য হবে এবং পুনরায় একি এসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ জমা দিতে হবে।

৪)  এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ অবশ্যই নিজের হাতে লিখতে হবে। নিজের হাতে লিখলে, হাতের লেখার যেমন অনুশীলন হবে একিভাবে বিষয়টি বুঝতেও সুবিধা হবে।

৫) এ্যাসাইনমেন্ট লেখার ক্ষেত্রে যে কোনাে সাধারণ কাগজ ব্যবহার করা যাবে। এ্যাসাইনমেন্টের প্রথম পাতায়
শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণী, আইডি, বিষয় ও Assignment বা নির্ধারিত কাজের শিরোনাম সুন্দর ও স্পষ্টভাবে  লিখতে হবে।

স্বীকারোক্তিঃ এখানে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে।সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং একথাও উল্লেখ থাকে যে এখান থেকে প্রাপ্ত কোন ভুল তথ্যের জন আমরা কোনভাবেই দায়ী নই এবং আপনার নিকট দৃশ্যমান ভুলটি আমাদেরকে নিম্নোক্ত মেইল / পেজ -এর মাধ্যমে অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ই-মেইলঃ admin@admissionwar.com অথবা এইখানে ক্লিক করুন।

admissionwar-fb-pageaw-fb-group

১৩ Comments

  1. Sir amar mobile number e . 6er 3shaptaho thake 5shaptahor assainment ta diben khub upoker hoy are ami apneder ai page folow kori amer kisu friend kew ai page shomporke boesi plz onek help hobe sir jodi ditan

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button